ত্বকের যত্ন, বিউটি টিপস

স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ার করছেন না বুঝেই? হচ্ছে ত্বকের ক্ষতি

স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ার করছেন না বুঝেই? হচ্ছে ত্বকের ক্ষতি

একের পর এক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ার আপ করছেন? অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস না বুঝলে কী ক্ষতি হতে পারে জানুন

আজকাল স্কিনকেয়ারে ট্রেন্ড ফলো করা অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য প্রোডাক্ট, অসংখ্য নতুন রুটিন। অনেকেই ভাবেন—যত বেশি প্রোডাক্ট তত বেশি ফলাফল। তাই একগাদা সিরাম, টোনার, এক্সফোলিয়েটর, ক্রিম একসাথে ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস না বুঝে একের পর এক প্রোডাক্ট ফেইসে লেয়ার আপ করা আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে?

আজকের এই লেখায় জানাবো—অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস কীভাবে কাজ করে, কোন কম্বিনেশন একসাথে ব্যবহার করা যায় আর কোনটি একদম নয়, কীভাবে ভুল লেয়ারিং ত্বকের ক্ষতি করে এবং সঠিকভাবে লেয়ারিং করার কৌশল কী।

স্কিনকেয়ারে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস কী?

অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস হচ্ছে সেই সব উপাদান যা কোনো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি:

  • নিয়াসিনামাইড – ত্বকের রঙ সমান করা, পোরস মিনিমাইজ করা।
  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড (BHA) – ডেড সেল রিমুভ, পোরস ক্লিন করা।
  • গ্লাইকোলিক অ্যাসিড (AHA) – ত্বকের উপরিভাগ এক্সফোলিয়েট করা।
  • রেটিনল – সেল টার্নওভার বাড়ানো, অ্যান্টি এজিং।
  • ভিটামিন সি – ব্রাইটনিং ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এগুলো আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে এবং প্রতিটির নিজস্ব pH লেভেল ও কনসেন্ট্রেশন থাকে।

সমস্যার শুরু: না বুঝে লেয়ারিং

যখন আপনি একসাথে একাধিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন—যেগুলোতে শক্তিশালী অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে—তখন এই ইনগ্রেডিয়েন্টস একে অপরের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
ফলাফল?

  • ইচিনেস
  • রেডনেস
  • অতিরিক্ত ড্রাইনেস
  • স্কিন ব্যারিয়ার ড্যামেজ
  • নতুন ব্রেকআউট

এখন আমরা ধাপে ধাপে দেখে নেব কীভাবে এই ক্ষতি হয় এবং কীভাবে এড়িয়ে চলা যায়।

একসাথে লেয়ারিং করলে স্কিনে কী হয়?

১. ওভার এক্সফোলিয়েশন

রেটিনল আর AHA/BHA জাতীয় এক্সফোলিয়েটর একই সাথে ব্যবহার করলে স্কিনের উপরিভাগ অতিরিক্ত পরিমাণে রিমুভ হতে থাকে।
ফলাফল:

  • স্কিনের প্রোটেকটিভ লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ত্বক অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
  • রেডনেস ও ইরিটেশন দেখা দেয়।

সঠিক পদ্ধতি:
একদিন রেটিনল ব্যবহার করলে আরেকদিন AHA/BHA ব্যবহার করুন। কখনোই একই রাতে একসাথে ব্যবহার করবেন না।

২. pH লেভেল ইমব্যালেন্স

আমাদের ত্বকের আইডিয়াল pH হচ্ছে ৪.৫–৫.৫।
কিন্তু যখন একসাথে অনেক অ্যাকটিভ ব্যবহার করেন—

  • যেমন রেটিনল (pH 5.5–6) এবং নিয়াসিনামাইড (pH 6–7) একসাথে,
  • তখন এই কম্বিনেশন স্কিনের pH অস্থিতিশীল করে স্কিন ব্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সঠিক পদ্ধতি:

  • এক প্রোডাক্ট ব্যবহারের পর অন্তত ২–৩ মিনিট সময় দিন।
  • বিকল্প দিনে ব্যবহার করুন।

৩. ব্রেকআউট বা পার্জিং

নতুন প্রোডাক্ট স্কিনে ইন্ট্রোডিউস করলে মাঝে মাঝে ব্রেকআউট হয়।

  • যদি ব্রেকআউট ৬–৮ সপ্তাহের পরও না কমে, সেটা রিঅ্যাকশন
  • যদি ৪ সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়, সেটা পার্জিং—মানে স্কিন ধীরে ধীরে অ্যাডজাস্ট হচ্ছে।

সঠিক পদ্ধতি:
একসাথে অনেকগুলো নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না।
প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর একটি নতুন প্রোডাক্ট যোগ করুন।

৪. অতিরিক্ত কনসেন্ট্রেশন

ভিটামিন সি-এর ম্যাক্সিমাম কনসেন্ট্রেশন হলো ২০%।
আপনি যদি একসাথে দুটি ভিটামিন সি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন এবং কনসেন্ট্রেশন হিসেব না করেন, তাহলে ত্বকে অতিরিক্ত স্ট্রেস পড়ে।
সঠিক পদ্ধতি:
একই অ্যাকটিভ দুইবার ব্যবহার না করা।

সঠিক লেয়ারিংয়ের কৌশল

স্কিনকেয়ার রুটিনে লেয়ারিং করা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেটা করতে হবে নিয়ম মেনে।

ধাপে ধাপে সঠিক লেয়ারিং:

  1. ক্লেনজার: প্রথম ধাপে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
  2. টোনার: হালকা হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করুন।
  3. অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট সিরাম:
    • যদি রেটিনল ব্যবহার করেন, অন্য এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করবেন না।
    • যদি স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্যবহার করেন, ওই দিন আর কোনো AHA/BHA ব্যবহার করবেন না।
  4. ময়েশ্চারাইজার: হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  5. সানস্ক্রিন (ডে টাইম): SPF 30 বা তার বেশি যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

pH লেভেল ঠিক রাখার উপায়

  • নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে এর pH লেভেল সম্পর্কে ধারণা নিন।
  • দুই প্রোডাক্টের মাঝে অন্তত ২–৩ মিনিটের গ্যাপ রাখুন।
  • খুব বেশি অ্যাসিডিক বা খুব বেশি ক্ষারীয় প্রোডাক্ট একসাথে ব্যবহার করবেন না।

কীভাবে স্কিন ব্যারিয়ার প্রটেক্ট করবেন

  • সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২–৩ দিন এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।
  • যদি স্কিনে বার্নিং সেনসেশন হয়, প্রোডাক্ট বন্ধ করুন।
  • ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
  • রাতে রেটিনল ব্যবহার করলে সকালে সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করুন।

অথেনটিক প্রোডাক্ট কেনার গুরুত্ব

যে প্রোডাক্টই ব্যবহার করেন না কেন, সেটি অবশ্যই অথেনটিক হতে হবে। নকল বা এক্সপায়ারড প্রোডাক্ট আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে।
অথেনটিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে ভিজিট করুন:

  • moreshopbd.com
  • অথবা নিকটস্থ moreshopbd শোরুম।

নতুনদের জন্য সহজ রুটিন

যদি আপনি স্কিনকেয়ারে নতুন হন, তাহলে শুরু করুন এই বেসিক রুটিন দিয়ে—

  • সকাল: জেন্টল ক্লেনজার → ময়েশ্চারাইজার → সানস্ক্রিন
  • রাত: জেন্টল ক্লেনজার → অ্যাকটিভ সিরাম (প্রয়োজন অনুযায়ী) → ময়েশ্চারাইজার
    ধীরে ধীরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোডাক্ট যোগ করুন।

অতিরিক্ত টিপস

  • প্রোডাক্ট কেনার আগে প্যাচ টেস্ট করুন।
  • একই সাথে দুইটি এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করবেন না।
  • একই সাথে রেটিনল ও ভিটামিন সি ব্যবহার করবেন না।
  • স্কিনের অবস্থা দেখে নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করুন।

স্কিনকেয়ার মানেই অনেকগুলো প্রোডাক্ট ব্যবহার করা নয়। সঠিক ইনগ্রেডিয়েন্টস, সঠিক কনসেন্ট্রেশন আর সঠিক সময়—এই তিনটি বিষয়ই আপনার ত্বককে সুন্দর রাখার মূল চাবিকাঠি।

অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস না বুঝে একের পর এক লেয়ার আপ করলে ত্বকে ক্ষতি হতে পারে, তাই সচেতন থাকুন। অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন, নিয়ম মেনে লেয়ারিং করুন এবং প্রয়োজনে স্কিন স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিন।

আপনার অথেনটিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে অবশ্যই ভিজিট করুন moreshopbd.com অথবা যেকোনো moreshopbd শোরুম।