ত্বকের যত্ন, বিউটি টিপস

মিলিয়া বা স্কিন কনসার্ন কীভাবে হয় আর কীভাবে মুক্তি পাবেন?

মিলিয়া বা স্কিন কনসার্ন কীভাবে হয় আর কীভাবে মুক্তি পাবেন?

মিলিয়া কী এবং কীভাবে দূর করা যায় – বিস্তারিত গাইড

ত্বকের সৌন্দর্য নিয়ে আজকাল আমরা সবাই সচেতন। ত্বকে কোনো ধরনের বাম্প বা অস্বাভাবিক কিছু দেখলে মন খারাপ হয়। অনেকেই একে ব্রণ ভেবে বসেন, অথচ এই ছোট ছোট সাদা বাম্পসগুলো অনেক সময় আসলে ব্রণ নয়—এগুলো মিলিয়া।

এখন প্রশ্ন হলো, মিলিয়া আসলে কী? কেন হয়? আর কীভাবে এটি কমানো বা প্রতিরোধ করা যায়? এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানুন এবং নিজের স্কিন কেয়ার রুটিনকে আরও সচেতনভাবে সাজান।

মিলিয়া কী?

মিলিয়া হচ্ছে খুব ছোট ছোট সাদা বা হালকা হলদে রঙের বাম্পস, যা সাধারণত চোখের চারপাশে, গাল বা নাকের পাশে দেখা যায়। এগুলোকে অনেক সময় Milk Spots নামেও ডাকা হয়।

মিলিয়া আসলে আমাদের ত্বকের উপরের স্তরের নিচে জমে থাকা কেরাটিন লাম্প। Stratum corneum—যা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তর—সেখানে কেরাটিন থাকে। কোনো কারণে এই কেরাটিন ত্বকের নিচে আটকে গেলে একটি ছোট সিস্ট তৈরি হয়, সেটিই মিলিয়া।

মিলিয়া একেবারেই নিরীহ; এটি কোনো ইনফেকশন বা ক্যান্সারজাতীয় জটিলতা সৃষ্টি করে না। তবে স্কিনের ফ্ললেস লুক নষ্ট করে দেয় এবং মেকআপ করলেও অনেক সময় ওই বাম্পসগুলো লুকানো যায় না।

মিলিয়া এবং হোয়াইটহেডসের পার্থক্য

অনেকেই মিলিয়াকে হোয়াইটহেডস মনে করেন। কিন্তু দুটো আসলে ভিন্ন স্কিন কনসার্ন।

বিষয় হোয়াইটহেডস মিলিয়া
গঠন ক্লোজড কমেডোন, এক ধরনের একনে কেরাটিন লাম্প
পপ করলে কী বের হয়? সাদা তেলতেলে পদার্থ বের হয় কিছুই বের হয় না
ইরিটেশন হয়? চুলকানি বা ব্যথা হতে পারে সাধারণত কোনো ইরিটেশন হয় না
অবস্থান ফোরহেড, নাক, গাল চোখের চারপাশে, গাল, কখনো নাকের পাশে

এই পার্থক্যগুলো জানলে বোঝা সহজ হবে যে আপনার ত্বকে আসলে কোন সমস্যাটি হয়েছে।

কেন হয় মিলিয়া?

শিশুদের ত্বকে মিলিয়া দেখা যায় অনেক বেশি। সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে তা সেরে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে মিলিয়া হতে পারে।

সম্ভাব্য কারণসমূহ

  1. ত্বকের পূর্ববর্তী ড্যামেজ: কোনো ইনজুরি, স্কিনে ফোসকা, বা টক্সিক এলিমেন্টের সংস্পর্শে আসা।
  2. স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহার: কিছু হাই-পাওয়ার ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহারে মিলিয়া হতে পারে।
  3. সান ড্যামেজ: বছরের পর বছর সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে বের হওয়ার ফলে ত্বকের কোলাজেন ও কেরাটিন স্তরে পরিবর্তন ঘটে।
  4. স্বাভাবিক এক্সফোলিয়েশন বন্ধ হয়ে যাওয়া: ত্বকের মৃত কোষ ঠিকমতো না ঝরে গেলে কেরাটিন জমে মিলিয়া হতে পারে।
  5. অতিরিক্ত অক্লুসিভ প্রোডাক্ট ব্যবহার: খুব হেভি ক্রিম, পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় প্রোডাক্ট বেশি ব্যবহার করলে পোরস ক্লগ হয়ে মিলিয়া দেখা দিতে পারে।
  6. জেনেটিক প্রবণতা: কিছু মানুষের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই মিলিয়া-প্রোন হতে পারে।

মিলিয়া কি বিপজ্জনক?

না, মিলিয়া একেবারেই বিপজ্জনক নয়। তবে দীর্ঘদিন থাকলে ত্বকের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয় এবং অনেক সময় স্কিনের টেক্সচার খারাপ করে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো বছরের পর বছর থেকেও যেতে পারে যদি সঠিক যত্ন না নেওয়া হয়।

মিলিয়ার ক্ষেত্রে কী করবেন, কী করবেন না

যা করবেন না

  • পপ করার চেষ্টা করবেন না: মিলিয়া পপ করলে কিছুই বের হবে না বরং ত্বকে ক্ষত তৈরি হবে, যা পার্মানেন্ট স্কার বা স্পট তৈরি করতে পারে।
  • হার্শ স্ক্রাব ইউজ করবেন না: খুব বেশি স্ক্রাব করলে ত্বকের ক্ষতি হবে, মিলিয়া যাবে না।

যা করা উচিত

  • নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের মৃত কোষ যাতে জমে না থাকে, সেজন্য সপ্তাহে ১-২ বার কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।
  • সানস্ক্রিন ব্যবহার: প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগান এবং ২-৩ ঘণ্টা পরপর রিঅ্যাপ্লাই করুন।
  • অক্লুসিভ প্রোডাক্ট সীমিত ব্যবহার: প্রয়োজনের অতিরিক্ত হেভি ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম বেসড পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

মিলিয়া কমাতে কোন প্রোডাক্টগুলো কাজে আসে?

এক্সফোলিয়েটর বেছে নিন সচেতনভাবে

  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড
  • গ্লাইকোলিক অ্যাসিড
  • ল্যাকটিক অ্যাসিড

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  • ত্বক পরিষ্কার করে শুকনো করুন।
  • কটন বাডে সামান্য এক্সফোলিয়েটিং টোনার নিয়ে শুধু মিলিয়ার উপর আলতো করে লাগান।
  • চোখের চারপাশে সরাসরি কনসেনট্রেটেড সিরাম ব্যবহার করবেন না; সবসময় সাবধানে ব্যবহার করুন।

সানস্ক্রিন:
মিলিয়া থাকুক বা না থাকুক, সানস্ক্রিন স্কিন কেয়ারের একটি বাধ্যতামূলক ধাপ। সান ড্যামেজের কারণে মিলিয়া বেড়ে যেতে পারে। তাই SPF 30 বা তার বেশি SPF যুক্ত সানস্ক্রিন প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

ময়েশ্চারাইজার:
লাইটওয়েট, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে পোরস ক্লগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।

অথেনটিক পণ্য কিনুন:
সব প্রোডাক্ট অবশ্যই বিশ্বস্ত সোর্স থেকে কিনতে হবে। আপনি নিশ্চিন্তে কিনতে পারেন moreshopbd.com থেকে বা সরাসরি moreshopbd এর ফিজিক্যাল স্টোরগুলো থেকে। এখানে পাবেন অথেনটিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট যা ত্বকের জন্য নিরাপদ।

মিলিয়া প্রতিরোধে দৈনন্দিন স্কিন কেয়ার রুটিন

১. ডাবল ক্লেনজিং: মেকআপ করলে অবশ্যই প্রথমে অয়েল বেসড ক্লেনজার দিয়ে মেকআপ রিমুভ করুন, তারপর জেন্টল ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।
২. এক্সফোলিয়েশন: সপ্তাহে ১-২ বার কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।
৩. সানস্ক্রিন: প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন লাগান।
৪. লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজার: নন-কমেডোজেনিক ক্রিম বা জেল বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৫. নিয়মিত হেলদি লাইফস্টাইল: পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিন।

ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ কবে নেবেন?

যদি মিলিয়ার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায় বা কোনো হোম রেমেডিতে কাজ না হয়, তবে দেরি না করে একজন ডার্মাটোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করুন।
কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তাররা বিশেষ ধরনের ট্রিটমেন্ট, যেমন মাইক্রো-নিডলিং বা লেজার ট্রিটমেন্ট সাজেস্ট করতে পারেন। এগুলো পেশাদারের তত্ত্বাবধানে করানো উচিত।

কেন অথেনটিক প্রোডাক্ট দরকার?

ত্বকের সমস্যা কমানোর জন্য প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে তা অবশ্যই অথেনটিক হওয়া জরুরি। নকল পণ্যের কারণে ত্বকে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। এজন্য—

  • moreshopbd.com থেকে অনলাইনে কিনুন
  • অথবা moreshopbd এর ফিজিক্যাল স্টোরে চলে যান

এখানে পেয়ে যাবেন আন্তর্জাতিক মানের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট যা নিরাপদ ও কার্যকর।

মিলিয়া কোনো বিপজ্জনক স্কিন কনসার্ন নয়, তবে এটি আপনার স্কিনের ন্যাচারাল গ্লোকে বাধা দিতে পারে। নিয়মিত যত্ন নিলে মিলিয়া ধীরে ধীরে কমে যায়। মনে রাখবেন—

  • মিলিয়া পপ করবেন না
  • নিয়মিত এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন
  • প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগান
  • হেভি অক্লুসিভ পণ্য এড়িয়ে চলুন
  • অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন

হেলদি ও ফ্ললেস স্কিনের জন্য নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিনের কোনো বিকল্প নেই। মিলিয়া থাকলে তা কমানোর জন্য ধৈর্য ধরুন এবং ধারাবাহিকভাবে যত্ন নিন। অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহারের জন্য অবশ্যই moreshopbd.com অথবা moreshopbd এর ফিজিক্যাল শপে ভিজিট করতে পারেন।

আপনার স্কিনের প্রতি ভালোবাসা এবং সচেতনতা যত বাড়বে, তত দ্রুত আপনি পাবেন সেই কাঙ্ক্ষিত হেলদি, গ্লোই স্কিন। আজ থেকেই শুরু করুন নিজের ত্বকের জন্য এই বাড়তি যত্ন।