ত্বকের যত্ন, বিউটি টিপস

ত্বকে হঠাৎ সমস্যা শুরু? কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কি, জানেন তো?

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কী এবং কেন হয়? প্রতিরোধের উপায়!

 

হঠাৎ করে ত্বকে ইরিটেশন হচ্ছে? কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস নয় তো?

আমাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ। প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবেশ, রাসায়নিক পদার্থ, পোশাকের কাপড়, প্রোডাক্ট বা উপকরণের সংস্পর্শে আসতে হয়। অনেক সময় হঠাৎ করেই ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে যখন ত্বক নতুন কোনো কসমেটিকস, ডিটারজেন্ট, ধাতু, রাসায়নিক পদার্থ কিংবা সিনথেটিক কাপড়ের সংস্পর্শে আসে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বলা হয়।

এটি খুব একটা ভয়ের রোগ নয়, তবে চুলকানি, ইরিটেশন ও অস্বস্তির কারণে দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তি ও কষ্ট তৈরি করে। আজকের এই পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে জানবো কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কী, কেন হয়, কী কী ধরনের হয়, এর উপসর্গ এবং প্রতিরোধ ও যত্নের উপায়।

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস কী?

কোনো বিশেষ পদার্থের সংস্পর্শে এসে ত্বকের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ফলে যে সমস্যা দেখা দেয়, সেটিই হলো কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস। এটি দুই ধরনের হতে পারে—

  1. অ্যালার্জিক কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস
  2. ইরিট্যান্ট কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস

উভয় ক্ষেত্রেই ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ, লালচে বা কালচে দাগ, শুষ্কতা, ফ্লেকি ভাব দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ভয়ের কিছু নয়, তবে ঠিকমতো যত্ন না নিলে এবং সংক্রমণ হলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে।

কেন কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হয়?

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের কারণ অনেক রকম হতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে যে সকল উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক বারবার বিভিন্ন কেমিক্যাল বা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসে, সেগুলোই প্রধান কারণ। কিছু সাধারণ কারণ নিচে দেওয়া হলো—

  • অথেনটিক নয় এমন কসমেটিকস বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা
    মেয়াদ উত্তীর্ণ বা মানসম্মত নয় এমন প্রোডাক্ট ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
  • ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা
    অনেকেই তৈলাক্ত ত্বকে হেভি ক্রিম, বা শুষ্ক ত্বকে বেশি ড্রাইং প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। ফলে ত্বকের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে ইরিটেশন সৃষ্টি হয়।
  • অতিরিক্ত কেমিক্যাল বা অ্যাসিডিক উপকরণে সংস্পর্শ
    ঘর পরিষ্কার করার উপকরণ, অতিরিক্ত ব্লিচিং এজেন্ট বা তীব্র অ্যাসিডিক ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ধাতু, সুগন্ধি বা সিনথেটিক ফাইবারে অ্যালার্জি
    অনেকের ক্ষেত্রে জুয়েলারির কোনো ধাতু, পারফিউমের অ্যালকোহল বা সিনথেটিক কাপড়ে ত্বক প্রতিক্রিয়া দেখায়।

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের দুই ধরন

১. অ্যালার্জিক কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস

এটি তখন হয় যখন ত্বক কোনো নতুন উপাদানকে অ্যালার্জেন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ—

  • নতুন কোনো মেকআপ বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট
  • কৃত্রিম সুগন্ধি
  • নিকেল বা অন্য কোনো ধাতু যুক্ত জুয়েলারি
  • রঙ করা কাপড় বা সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল

উপসর্গ:

  • একজিমা ধরনের ফুসকুড়ি
  • ড্রাই ও ফ্লেকি স্কিন
  • তীব্র চুলকানি
  • ব্যথা ও ফোলাভাব
  • ত্বক প্রথমে লালচে ও পরে কালচে হওয়া
  • সান সেনসিটিভিটি

২. ইরিট্যান্ট কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস

এই ধরনটি অনেক বেশি সাধারণ। ত্বক যখন কোনো টক্সিক বা তীব্র রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসে তখন এটি হয়। যেমন—

  • ডিটারজেন্ট
  • কেরোসিন
  • ব্লিচ
  • ক্লোরিনযুক্ত পানি
  • বিভিন্ন ক্লিনার

উপসর্গ:

  • ত্বকে লালচে দগদগে ভাব
  • অতিরিক্ত শুষ্কতা ও মরা চামড়া ওঠা
  • জ্বালা বা ইরিটেশন
  • হালকা ফোলাভাব

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হলে কী করবেন?

প্রাথমিক অবস্থায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। তবে প্রথমেই যে জিনিসটি করতে হবে তা হলো, ত্বকের যে অংশে রিঅ্যাকশন হয়েছে সেটিকে কোনোভাবেই চুলকানো যাবে না। চুলকালে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে এবং ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সঠিক যত্ন নেওয়ার ধাপগুলো:

  1. মাইল্ড সোপ এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।
    অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না।
  2. যে প্রোডাক্ট বা উপাদান থেকে রিঅ্যাকশন হয়েছে সেটি ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
    মেয়াদ উত্তীর্ণ বা অরিজিনাল নয় এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না।
  3. ত্বক আর্দ্র রাখুন।
    প্রয়োজনে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়।
  4. ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টি ইচিং লোশন ব্যবহার করুন।
    কিছু ক্ষেত্রে হাইড্রোকর্টিসন বা অন্য কোনো মাইল্ড কর্টিকোস্টেরয়েড লোশন উপকারী হতে পারে।
  5. ত্বকের সংস্পর্শে আসা কাপড় বা ডিটারজেন্ট পরিবর্তন করুন।
    অনেক সময় নতুন ডিটারজেন্ট বা নতুন কাপড়ের রঙের কারণে রিঅ্যাকশন হয়।
  6. বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের যত্ন নিন।
    পানি বেশি পান করুন, হেলদি খাবার খাওয়া শুরু করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসকে পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও কিছু অভ্যাস মেনে চললে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়—

  • সবসময় মানসম্মত এবং অথেনটিক পণ্য ব্যবহার করুন।
  • ত্বকের ধরন বুঝে কসমেটিকস বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নিন।
  • হাউজ ক্লিনিং করার সময় প্রয়োজন হলে হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করুন।
  • ধাতু বা সিনথেটিক কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রথমে পরীক্ষা করে তারপর ব্যবহার করুন।

অথেনটিক পণ্য ব্যবহারের গুরুত্ব

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের অন্যতম কারণ হলো নকল বা মানহীন প্রোডাক্ট। তাই সবসময় অথেনটিক পণ্য ব্যবহার করতে হবে। আপনি চাইলে নিরাপদে এবং নিশ্চিন্তে moreshopbd থেকে স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস কিনতে পারেন।
অনলাইনে অর্ডারের সুবিধার জন্য moreshopbd.com ভিজিট করতে পারেন। অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং অপ্রত্যাশিত রিঅ্যাকশনের ঝুঁকিও কমে যায়।

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস তেমন ভয়াবহ কোনো ত্বকের রোগ নয়। তবে এটি উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ ত্বকে ক্রমাগত চুলকানি, জ্বালা, শুষ্কতা এবং র‍্যাশ থাকলে দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা তৈরি হয়। ত্বকের যত্ন নিন, সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন এবং কোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যই আপনার সৌন্দর্যের বড় একটি অংশ।