মেলাজমা বা মেছতা কি ? জেনে নিন ডার্মাটোলজিস্টের মতামত !
মেলাজমা বা মেছতা পুরোপুরি দূর করা কি আসলেই সম্ভব?
ম্যাচিউর স্কিনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্কিনের ভেতরে নানা পরিবর্তন আসে, হরমোনের ওঠানামা হয়, সূর্যের আলোর প্রভাবও জমা হতে থাকে বছরের পর বছর। এর মধ্যেই অনেকেই একটি সমস্যা নিয়ে চিন্তায় পড়েন—মেলাজমা বা বাংলায় যাকে বলা হয় মেছতা।
বিশেষ করে এশিয়ান ত্বকে মেলাজমা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই জানতে চান—মেছতা কেন হয়? এটি কি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব? কোন কোন পদ্ধতি বা উপাদান কার্যকর? আজকের এই পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেলে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মেলাজমা বা মেছতা আসলে কী?
মেলাজমা হলো এক ধরনের হাইপারপিগমেন্টেশন। সাধারণত মুখের ওপর বাদামী বা ধূসর-বাদামী রঙের প্যাচ দেখা দেয়। অনেকেই এটাকে শুধু রোদে পোড়া দাগ ভেবে থাকেন, কিন্তু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্কিন কন্ডিশন, যা মূলত ত্বকের ভেতরে মেলানিন নামের পিগমেন্টের অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে হয়।
এটি সাধারণ ফ্রিকেলস বা সান স্পট থেকে আলাদা কারণ মেলাজমার প্যাচগুলো তুলনামূলকভাবে বড়, ছড়িয়ে থাকে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মেলানিন কী এবং কেন বাড়ে?
ত্বকের রঙ নির্ধারণের জন্য মেলানিন দায়ী। আমাদের ত্বকের এপিডার্মিস লেয়ারে থাকে মেলানোসাইট নামের কোষ। এই কোষ থেকেই মেলানিন তৈরি হয়।
মেলানিন দুই ধরনের—
- Eumelanin: ব্রাউন-কালো পিগমেন্ট, যা ডার্ক স্কিনটোনে বেশি থাকে।
- Pheomelanin: লালচে-হলুদ পিগমেন্ট, যা ফেয়ার স্কিনটোনে বেশি থাকে।
এশিয়ান ও আফ্রিকানদের ত্বকে Eumelanin বেশি থাকে, এজন্য মেলাজমা, পিগমেন্টেশন সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে টাইরোসিনেজ এনজাইম। যখন সূর্যের UV রশ্মি ত্বকের ওপর পড়ে, তখন এই এনজাইম সক্রিয় হয়ে মেলানোসাইটকে আরও বেশি মেলানিন তৈরি করতে প্ররোচিত করে। এর ফলে ধীরে ধীরে মেলাজমা, পিগমেন্টেশন, ফ্রিকেলস ইত্যাদি দেখা দেয়।
মেলাজমা হওয়ার কারণগুলো
মেলাজমা হওয়ার পেছনে শুধু রোদই নয়, আরও কিছু কারণ রয়েছে—
১. অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শ
২. হরমোনাল পরিবর্তন – প্রেগনেন্সি, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, মেনোপজ ইত্যাদির কারণে হরমোন ওঠানামা করে।
৩. থাইরয়েড সমস্যা
৪. অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস
৫. হরমোনাল ইমব্যালেন্স
৬. হার্মফুল কেমিক্যাল যুক্ত পণ্য ব্যবহার
পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায় কারণ নারীদের হরমোনাল ওঠানামা অনেক বেশি হয়। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন মেলানিন প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়, ফলে মেছতা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মেলাজমা কি একেবারে দূর করা সম্ভব?
অনেকেই জানতে চান—মেলাজমা কি পুরোপুরি রিমুভ করা যায়?
এর উত্তর হলো—তা নির্ভর করছে মেলাজমার গভীরতা ও ধরণের ওপর।
- মেলাজমা কিন্তু একদিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে গাঢ় হয়।
- অনেক সময় ত্বকের একেবারে গভীর লেয়ারে মেলানিন জমে যায়, যেটা শুধুমাত্র ক্রিম ব্যবহার করে দূর করা সম্ভব নয়।
ডার্মাটোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট
পার্মানেন্টলি মেলাজমা কমাতে ডার্মাটোলজিস্টরা অনেক সময় অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট সাজেস্ট করেন, যেমন—
- মাইক্রোডার্মাব্রেশন
- কেমিক্যাল পিল
- মাইক্রোনিডলিং
- লেজার থেরাপি
এই ট্রিটমেন্টগুলো বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। নিয়মিত সেশন নিতে হয় এবং সবার পক্ষে করা সম্ভব হয় না। তবে এ ধরনের ট্রিটমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
স্কিনকেয়ারের মাধ্যমে মেলাজমা কমানোর উপায়
যদি মেলাজমা একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকে, তাহলে স্কিনকেয়ারের মাধ্যমে অনেকটাই কমানো যায় এবং নতুন করে ছড়িয়ে পড়া থেকেও রক্ষা করা যায়। নিচে কিছু কার্যকর অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টের নাম দেওয়া হলো—
হাইড্রোকুইনন
- ত্বকের কালো দাগ ও মেছতা হালকা করতে সাহায্য করে।
- তবে এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে কারণ ভুলভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
নিয়াসিনামাইড (ভিটামিন বি৩)
- পিগমেন্টেশন ফেইড করে, স্কিনটোন উজ্জ্বল করে।
- অতিরিক্ত তেল ও সেবাম নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বকের ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করে।
ভিটামিন সি
- মেলানিন প্রোডাকশনের জন্য দায়ী এনজাইমকে ব্লক করে।
- ডার্ক স্পটস হালকা করে, কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়ায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
আলফা আরবুটিন
- টাইরোসিনেজ এনজাইমের কার্যক্রমকে কমিয়ে মেলানিন প্রোডাকশন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাইপারপিগমেন্টেশন ও স্পট কমাতে কার্যকর।
অন্যান্য উপাদান
- কজিক অ্যাসিড
- রেটিনল
এই উপাদানগুলো ধীরে ধীরে ত্বকের উপরিভাগে কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে ত্বকের রঙের পার্থক্য কমিয়ে আনে।
সঠিক ব্যবহার ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- যেকোনো অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।
- ডে টাইমে অবশ্যই SPF ৫০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। প্রতি ৩–৪ ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
- হাইড্রেশন বজায় রাখুন—প্রচুর পানি পান করুন এবং ব্যালেন্সড ডায়েট ফলো করুন।
- খুব বেশি প্রোডাক্ট একসাথে ব্যবহার না করে ধীরে ধীরে ত্বকের সাথে মানিয়ে নিন।
প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সমাধান
যখন মেলাজমা একেবারে গভীরে পৌঁছে যায়, তখন সেটি পুরোপুরি মুছে ফেলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
- রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- বাইরে বেশি সময় থাকলে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন।
- ত্বকের উপযোগী অথেনটিক পণ্য ব্যবহার করুন।
অথেনটিক পণ্য কোথায় পাবেন?
মেলাজমার মতো স্পর্শকাতর সমস্যায় কোনো রকম নকল বা ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না। সবসময় অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন যা আপনার ত্বকের জন্য নিরাপদ।
অথেনটিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে পারেন—
- moreshopbd.com অনলাইন স্টোর থেকে
অথবা - moreshopbd এর ফিজিক্যাল শপ থেকে
এখানে আপনি পাবেন ব্র্যান্ডেড এবং আসল পণ্য, যা আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবেন।
মেলাজমা বা মেছতা পুরোপুরি দূর করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও তা একেবারে রাতারাতি সম্ভব নয়।
এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্কিন কন্ডিশন, যা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ, সঠিক স্কিনকেয়ার এবং নিয়মিত সান প্রোটেকশন আপনাকে এই সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
মনে রাখবেন—
- সময়মতো সঠিক স্কিনকেয়ার শুরু করলে অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।
- প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
- অথেনটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে ভুলবেন না, যা পাবেন moreshopbd বা moreshopbd.com থেকে।
আজ থেকেই শুরু করুন সচেতন যত্ন, আর ত্বককে রাখুন সুন্দর, স্বাস্থ্যকর এবং দাগহীন।